বইটি প্রসঙ্গে কিছু বলতে গেলে যা বলতে হয় যে,
ইতিহাসের বই বললে চোখের সামনে যে অজ্য সাল-মাস-তারিখ, রাজা-উজিরের যুদ্ধ ভেসে ওঠে এই বই মােটেই সেই ঘরানার নয়। এই পৃথিবীতে মানুষ নামক প্রাণীটির সামগ্রিক উত্থান, তার টিকে থাকার
লড়াই আর সুখ শান্তির অনন্ত খোঁজের এক চমকপ্রদ গল্প এটা। গল্পটা যিনি বলেছেন তাকে এ যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে ইতােমধ্যে। প্রফেসর হারারি ২০০২ সালে তাঁর পিএইচডি শেষ করেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এখন তিনি জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
তাঁর গবেষণার বিষয়বস্তু বিশ্ব ইতিহাস, মধ্যযুগের ইতিহাস আর সামরিক ইতিহাস হলেও তাঁর পছন্দের বিষয়ের বিস্তৃতি অনেক বড়। বর্তমানে তিনি মানুষের সামগ্রিক ইতিহাসের বৃহত্তর প্রশ্নগুলাের উত্তর
খোঁজার চেষ্টা করছেন। সেরকম কিছু প্রশ্ন হল: ইতিহাস আর জীববিজ্ঞানের মধ্যে সম্পর্ক কী? হােমাে সেপিয়েন্সের সাথে অন্যান্য প্রাণীর মূল পার্থক্যটা কী? ইতিহাসে কি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়?
ইতিহাসের কি কোন নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা আছে? যত সময় গড়িয়েছে। মানুষ কি তত সুখী হয়েছে? একুশ শতকে এসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কী ধরনের নৈতিক প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে?
এইসব প্রশ্ন যে একেবারে নতুন তা নয়। মানুষের সামগ্রিক ইতিহাস নিয়ে বইও লেখা হয়েছে বিস্তর। সেসব বইয়ের মত সেপিয়েন্সেও মােটা দাগে কয়েকটা স্তরে ইতিহাসকে বর্ণনা করা হয়।
কিন্তু প্রফেসর হারারির সামগ্রিক বর্ণনায় কিছু বিশেষত্ব লক্ষণীয়। তিনি ইতিহাসের অনেক প্রচলিত ধারণার গ্রহণযােগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কিছু অকাট্য যুক্তির মাধ্যমে যা পাঠককে ভাবতে বাধ্য করবে।
সেপিয়েন্স - মানুষের ইতিহাস
Comments
Post a Comment